আমাদের
কিশোর বেলায় আমাদের বাড়ির বাগানে ননী গাছটি ছিল ।বোটানিক্যাল
নাম Morinda citrifolia, আমার মায়ের লাগানো , অবশ্য
ফুলের টানেই গাছটি লাগিয়েছিলেন আমার মা । প্রায় সারা বছরই রজনীগন্ধার
কাছাকাছি দেখতে তীব্র সুগন্ধি ফুলে ভরে থাকতো , ফুলটি কাঠমল্লিকা নামে
পরিচিত । বাড়িতে না থাকলেও বাগানে এখনও আছে , গাছটি বিশেষ যত্নের প্রত্যাশী নয় , কলম বা রুট হরমোন দিয়ে চারা করা যায় । ননীফল দু’হাজারেরও বেশী বছর ধরে পলিনিশিয়া, চীন, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারতের
আদিবাসীদের মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।উদ্ভিদবিদ ড. ইসাবেল এলবার্ট বলছেন ননীফলের রস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান স্কপলেটিন সঙ্কুচিত
রক্তনালীকে সচল করে। তিনি আরো জানান এ ফলের রসে এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা
ক্যান্সার উৎপন্নকারী কোষকে প্রতিরোধ করে আর বাড়তে দেয় না। ননীফলের রসে
ইনোসিটল পাওয়া গেছে যা সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী ডিপ্রেশনের
চিকিৎসায় উপকার করে। ইনোসিটল এক ধরনের প্রাকৃতিক এলকোহল যা ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
Tuesday, 2 May 2017
Tuesday, 28 March 2017
সর্পগন্ধা
Partha Sarathi Mukhopadhyay
সর্পগন্ধা
এক উপকারী বৃক্ষের নাম। এ গাছকে ইংরেজিতে রাউলফিয়া বলা হয়। খ্রিস্টের
জন্মের কয়েক'শ বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল।
সর্বগন্ধা আমাদের দেশের ছোট এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক,
অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ গাছ।
ভারত,বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে মোট পাঁচ
রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। 'রাউলফিয়া সার্পেন্টিনা' বিজ্ঞানসম্মত এ নামের
গাছটি ওষুধের জন্য লাগে। রাউলফিয়া শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল শতকের জার্মান
উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড রাউফলের শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল
শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড লাউফলের নাম থেকে।
সার্পেন্টিনা কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে, যার অর্থ সাপ। আসলে, সাপকে নিয়ে
এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন, সাপের সঙ্গে লড়ার
আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর
জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস ছিল,
সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে
পারে না। গাছটির শিকড় সাপের মতো অনেকটা অাঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার
জন্ম হয়েছে। এ উপমহাদেশের বেশির ভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ
জন্মায়। সর্পগন্ধা বৃক্ষ বড়জোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়। কদমগাছের
পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের
কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি। সুইজারল্যান্ডের 'সিবা' কোম্পানির
গবেষকরা এ গাছটি থেকে 'রেসার পিন' নামের এক ধরনের অ্যালকালয়েড কোষ্ঠীর
রাসায়নিক যৌগ আলাদা করতে পেরেছিলেন। তার অনেক আগে অবশ্য দুজন ভারতীয় ওই
একই গোষ্ঠীর অ্যাজমলিন নামের রাসায়নিক সংশ্লেষ করেছিলেন সর্পগন্ধা গাছ
থেকে। রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন রেসার পিন ব্যবহার করা
হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল।
এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।
Subscribe to:
Comments (Atom)


