Tuesday, 28 March 2017

সর্পগন্ধা


Partha Sarathi Mukhopadhyay
Partha Sarathi Mukhopadhyay
সর্পগন্ধা এক উপকারী বৃক্ষের নাম। এ গাছকে ইংরেজিতে রাউলফিয়া বলা হয়। খ্রিস্টের জন্মের কয়েক'শ বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল। সর্বগন্ধা আমাদের দেশের ছোট এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক, অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ গাছ। ভারত,বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে মোট পাঁচ রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। 'রাউলফিয়া সার্পেন্টিনা' বিজ্ঞানসম্মত এ নামের গাছটি ওষুধের জন্য লাগে। রাউলফিয়া শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড রাউফলের শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড লাউফলের নাম থেকে। সার্পেন্টিনা কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে, যার অর্থ সাপ। আসলে, সাপকে নিয়ে এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন, সাপের সঙ্গে লড়ার আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস ছিল, সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে পারে না। গাছটির শিকড় সাপের মতো অনেকটা অাঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার জন্ম হয়েছে। এ উপমহাদেশের বেশির ভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ জন্মায়। সর্পগন্ধা বৃক্ষ বড়জোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়। কদমগাছের পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি। সুইজারল্যান্ডের 'সিবা' কোম্পানির গবেষকরা এ গাছটি থেকে 'রেসার পিন' নামের এক ধরনের অ্যালকালয়েড কোষ্ঠীর রাসায়নিক যৌগ আলাদা করতে পেরেছিলেন। তার অনেক আগে অবশ্য দুজন ভারতীয় ওই একই গোষ্ঠীর অ্যাজমলিন নামের রাসায়নিক সংশ্লেষ করেছিলেন সর্পগন্ধা গাছ থেকে। রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন রেসার পিন ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা  ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।