Tuesday, 2 May 2017

আমাদের কিশোর বেলায় আমাদের বাড়ির বাগানে ননী গাছটি ছিল ।বোটানিক্যাল নাম Morinda citrifolia, আমার মায়ের লাগানো , অবশ্য ফুলের টানেই গাছটি লাগিয়েছিলেন আমার মা । প্রায় সারা বছরই রজনীগন্ধার কাছাকাছি দেখতে তীব্র সুগন্ধি ফুলে ভরে থাকতো , ফুলটি কাঠমল্লিকা নামে পরিচিত । বাড়িতে না থাকলেও বাগানে এখনও আছে , গাছটি বিশেষ যত্নের প্রত্যাশী নয় , কলম বা রুট হরমোন দিয়ে চারা করা যায় । ননীফল দু’হাজারেরও বেশী বছর ধরে পলিনিশিয়া, চীন, অষ্ট্রেলিয়া ও ভারতের আদিবাসীদের মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।উদ্ভিদবিদ ড. ইসাবেল এলবার্ট বলছেন ননীফলের রস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে বিদ্যমান ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান স্কপলেটিন সঙ্কুচিত রক্তনালীকে সচল করে। তিনি আরো জানান এ ফলের রসে এক ধরনের যৌগ রয়েছে যা ক্যান্সার উৎপন্নকারী কোষকে প্রতিরোধ করে আর বাড়তে দেয় না। ননীফলের রসে ইনোসিটল পাওয়া গেছে যা সাম্প্রতিক কিছু সমীক্ষা অনুযায়ী ডিপ্রেশনের চিকিৎসায় উপকার করে। ইনোসিটল এক ধরনের প্রাকৃতিক এলকোহল যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

Tuesday, 28 March 2017

সর্পগন্ধা


Partha Sarathi Mukhopadhyay
Partha Sarathi Mukhopadhyay
সর্পগন্ধা এক উপকারী বৃক্ষের নাম। এ গাছকে ইংরেজিতে রাউলফিয়া বলা হয়। খ্রিস্টের জন্মের কয়েক'শ বছর আগে চরক সংহিতায় সর্পগন্ধা নামে গাছটির উল্লেখ ছিল। সর্বগন্ধা আমাদের দেশের ছোট এক বুনো গাছ। বহু বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক, অ্যালোপ্যাথিক এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এ গাছ। ভারত,বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপালসহ উপমহাদেশের অন্যান্য দেশে মোট পাঁচ রকমের সর্পগন্ধা পাওয়া যায়। 'রাউলফিয়া সার্পেন্টিনা' বিজ্ঞানসম্মত এ নামের গাছটি ওষুধের জন্য লাগে। রাউলফিয়া শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড রাউফলের শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ষোল শতকের জার্মান উদ্ভিদবিশারদ ও চিকিৎসাবিদ লিওনহার্ড লাউফলের নাম থেকে। সার্পেন্টিনা কথাটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে, যার অর্থ সাপ। আসলে, সাপকে নিয়ে এ গাছটির সঙ্গে আমাদের দেশে অনেক উপকথা ছড়িয়ে আছে। যেমন, সাপের সঙ্গে লড়ার আগে নেউল নাকি সর্পগন্ধার পাতা চিবিয়ে নেয়। সাপ মানে অবশ্যই বিষধর সাপ। এর জন্যই নাকি সাপের বিষ নেউলকে কাবু করতে পারে না। অনেকের বিশ্বাস ছিল, সর্পগন্ধা গাছের পাতা বেটে গোড়ালিতে লাগালে সাপ ও বোলতার বিষ ক্ষতি করতে পারে না। গাছটির শিকড় সাপের মতো অনেকটা অাঁকাবাঁকা বলেই হয়তো এসব ধারণার জন্ম হয়েছে। এ উপমহাদেশের বেশির ভাগ দেশেই বুনো অবস্থায় সর্পগন্ধা গাছ জন্মায়। সর্পগন্ধা বৃক্ষ বড়জোর ৪ ফুট লম্বা, পাতাগুলো বেশ বড়। কদমগাছের পাতার মতো দেখতে অনেকটা। গোছা গোছা সাদা রঙের ফুল ফোটে গাছের মাথায়। ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ির নিচের দিক গোলাপি। সুইজারল্যান্ডের 'সিবা' কোম্পানির গবেষকরা এ গাছটি থেকে 'রেসার পিন' নামের এক ধরনের অ্যালকালয়েড কোষ্ঠীর রাসায়নিক যৌগ আলাদা করতে পেরেছিলেন। তার অনেক আগে অবশ্য দুজন ভারতীয় ওই একই গোষ্ঠীর অ্যাজমলিন নামের রাসায়নিক সংশ্লেষ করেছিলেন সর্পগন্ধা গাছ থেকে। রক্তচাপ কমানোর ওষুধ হিসেবে সারা বিশ্বে এখন রেসার পিন ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্মাদদের মাথা  ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রথমে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন অনিদ্রা রোগের ওষুধ হিসেবেও রেসার পিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।

Tuesday, 22 November 2016

করল্লা

বেশিরভাগ মানুষই করল্লা পছন্দ করেন না। করল্লা পছন্দ না করার প্রধান কারণ এর তিতা স্বাদ। কিন্তু করল্লার উপকারিতা এতই বেশি যে পছন্দ না করলেও শরীর সুস্থ রাখতে ও বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে বাঁচতে করণ্ণা খাওয়া জরুরী। তাই জেনে নিন করল্লার খাদ্যগুণ।

করল্লা কোন কোন রোগের জন্য উপকারী?
ডায়াবেটিস মেলিটাসঃ করল্লা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক একধরনের এনজাইম বৃদ্ধি করে শরীরের কোষ গুলোর চিনি গ্রহনের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। করল্লার রস শরীরের কোষের ভিতরে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে চিনির পরিমান কমে যায়।
অ্যালার্জিঃ অ্যালার্জি প্রতিরোধে করল্লার উপকারিতা অপরিসীম। করল্লার রসে উপকার পাওয়া যায়।
গেঁটে বাতঃ নিয়মিত করল্লার রস খেলে বাতের ব্যাথায় উপকার পাওয়া সম্ভব।
স্ক্যাবিসঃ করল্লার রসে জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে। বিভিন্ন রকম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে করল্লার উপকারিতা অপরিসীম।
এ্যাকজিমাঃ করল্লার রসে জীবাণুনাশক ক্ষমতা রয়েছে যা বিভিন্ন রকম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ্যাকজিমা প্রতিরোধে করল্লার উপকারিতা অনেক।
লিভার ডিজিজঃ লিভার ডিজিজ খাওয়ার রুচি কমিয়ে দেয়। খাওয়ায় আবার রুচি ফিরিয়ে আনতে করল্লার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।
এনিমিয়াঃ ভিটামিন সি প্রোটিন ও আয়রন শোষণে সাহায্য করে। করল্লায় প্রচুর ভিটামিন সি আছে যা আয়রন শোষণ করে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়।
চুলের ক্ষতিঃ যথেষ্ট পরিমানে ভিটামিন সি থাকায় চুলের জন্য করল্লার উপকারিতা অনেক।
কোষ্ঠ্যকাঠিণ্যঃ করল্লা ডাইটারি ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই পেটের সমস্যায় করল্লার উপকারিতা অনেক।
গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাগাল রিফাক্স ডিজিজ(জিইআরডি): পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে।
ম্যালেরিয়াঃ ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করে।
মাথা ব্যাথাঃ মাথা ব্যথা কমিয়া দেয়।
এন্টিএজেনঃ অ্যান্টিওক্সিডেন্ট বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখে ও শরীরের কোষ গুলি কে রক্ষা করে। এতে আছে লুটিন ও লাইকোপিন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লাইকোপিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। করল্লায় প্রচুর লাইকোপিন থাকে। বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে করল্লার উপকারিতা অপরিসীম।
রাতকানা রোগঃ করল্লাতে যথেষ্ট পরিমাণে বেটা ক্যারোটিন রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বেটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী।
কোন কোন ক্ষেত্রে করলা খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনবেন?
কিডনী ডিজিজঃ যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি তাদের করল্লা না খাওয়াই ভাল। করল্লার উপকারিতা থাকলেও কিডনি ডিজিজের রোগীদের করল্লা এড়িয়ে চলা উচিৎ।
ডায়ারিয়াঃ এটি আশঁযুক্ত খাবার বলে ডায়ারিয়া রোগীদের দেওয়া হয় না।
লিভার সিরোসিসঃ তিতা বেশি খেলে লিভারে ক্ষতি করে। কারণ এটি বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
করল্লার জীবাণুনাশক ক্ষমতা রোগ-প্রতিরোধ এবং রোগ নিরাময়ের জন্য অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া কে প্রতিরোধ করতে এবং গুড়া কৃমি, ফিতা কৃমি, অ্যাস্ক্যারিয়াসিস, সাধারন সর্দ্দি-কাশি, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ, ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিঅ্যাকট্যাইসিস, কোলনজাইটিস, গলস্টোন, গলব্লাডার ক্যান্সার, ও গলব্লাডার ডিজিজ সারাতে করল্লার উপকারিতা রয়েছে।

Sunday, 30 October 2016

পটল সুন্দরীর কথা

"আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না ,

 ইস্তাম্বুল গিয়ে জাপান কাবুল গিয়ে শিখেছি সহজ এই রান্না ।

। হাতে নিয়ে ডেকচি, দেই তুলে হেঁচকি,

 বিরিয়ানী কোরমা, পটলের দোর (ল)মা

, মিলেমিশে হয়ে যায় প্যারিসের--- ।।

 পাবেন না মশলাটা যেখানেই যান না ।।"

আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ সুগার বা কোলেস্টোরলের রোগী ?সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পটলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন।


 পটল কিছুটা শসা ও ক্ষীরা গোত্রের উদ্ভিদ। এটি খেতেও উপাদেয়। পটল স্যুপ, তরকারী, ভাজা এমনকী মিষ্টান্ন প্রস্তুতিতেও ব্যবহৃত হয়।পটল দিয়ে নানা রকমের খাবার করা হয়।

পটল আমাদের রান্নায় ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী সবজি। পটল ভাজা বা পটলের দোরমার কথা বলতে গেলে জিভে জল আসে যায়, মাছ বা মাংসের সঙ্গে বা অন্য সবজির সঙ্গেও রান্নায় আর স্বাদ তুলনাহীন। পটল  কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও যথেষ্ট উপকারী।

ভিটামিন এ ও সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে পটল  ত্বকের জন্য উপকারী। ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিস্তার রোধ করে পটল বয়সের ছাপ ঠেকাতে সাহায্য করে। পটলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাবার হজমে সাহায্য করে।
এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধানে এবং লিভারের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে। পটল পেট ভরা রাখতে ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। পটল রক্তকে পরিশোধিত করে।
পটলের ছোট গোলাকার বিচিগুলো কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ঠাণ্ডা, জ্বর ও গলা ব্যথা কমতে ঔষুধ হিসেবে ব্যবহার হয় পটল।

  • পটল হজমশক্তি বাড়ায়।
  • কাশি, জ্বর, রক্তদুষ্টি কমায়।
  • কৃমি সাড়ায় এবং শরীর ঠান্ডা রাখে।
  • মুখের দুর্গন্ধ দূর করে
তথ্যসূত্র ও ছবি :- গুগল সৌজন্যে

Friday, 28 October 2016

চৌদ্দশাক খেলে নাকি কার্তিকের টান থেকে রেহাই পাওয়া যায়, কারণ এই মাসে যমের বাড়ির ৮টি দরজা খোলা থাকে

দীপাবলির আগের দিন ভূতচতু্র্দশী,এই দিন  বাঙালি গৃহস্থবাড়িতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয় ,  সঙ্গে নিয়ম রয়েছে, খেতে হয় ১৪ রকম শাক-ও৷ভূতচতু্র্দশীতে, ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে এদিন দুপুরে ভাতের সঙ্গে খেতে হয় ১৪ রকম শাকভাজা। কথিত আছে, অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে এবং অতৃপ্ত আত্মাদের তুষ্ট করতে এই দিনে ১৪ শাক খাওয়া হয় এবং সন্ধ্যায় ১৪ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

কালীপুজোর সঙ্গে চোদ্দো শাকের সম্পর্ক নিয়ে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এই প্রথার সঙ্গে শস্যদায়িনী দেবী ভাবনার যোগাযোগ রয়েছে। ভেষজবিজ্ঞানীদের মতে ঋতু পরিবর্তনের সময়ে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে এই শাকগুলি খাওয়া হত।
বাংলার ঋতু প্রকোপ অন্য প্রদেশের থেকে বেশি হওয়ার জন্য আশ্বিন ও কার্ত্তিক মাস দুটিকে যমদংস্টা কাল বলা হত। তখনকার দিনে বাংলার নব্য-স্মৃতিশাস্ত্রকার রঘুনন্দন (১৬ শতাব্দী) তাঁর অষ্টবিংশতি তত্ত্বের অন্যতম গ্রন্থ “কৃত্যতত্ত্বে” এই সময়কাল উল্লেখ করেছেন “নিৰ্ণয়া-মৃতের” (একটি প্রাচীন স্মৃতির গ্রন্থ) অভিমত অনুসরণ করে-

"ওলং কেমুকবাস্তূকং, সার্ষপং নিম্বং জয়াং।

শালিঞ্চীং হিলমোচিকাঞ্চ পটুকং শেলুকং গুড়ূচীন্তথা।

ভণ্টাকীং সুনিষন্নকং শিবদিনে খাদন্তি যে মানবাঃ,

প্রেতত্বং ন চ যান্তি কার্ত্তিকদিনে কৃষ্ণে চ ভূতে তিথৌ।

ঘোর অমাবস্যায় অন্ধকার দূর করতেই দীপ জ্বালানোর রেওয়াজ। আর ১৪টি শাক খাওয়ার নিয়মটি এসেছে প্রধানত স্বাস্থ্যরক্ষার্থে। কারণ ঠান্ডার আমেজ এসে যায় এই সময়। মরসুম বদলের সময় প্রধানত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতেই ১৪টি শাক খাওয়া দরকার। অন্তত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতে বিষয়টি তাই দাঁড়ায়। এই শাকগুলি হল যথাক্রমে— ওল, কেঁউ, বেতো, সর্ষে, , নিম, জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, পলতা, শৌলফ, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা এবং শুষণী।শরীর ভালো রাখতে গ্রিন ভেজিটেবিলস এর বিকল্প যে কিছু হতে পারে না, তা তো সকলেই জানেন৷ বিশেষত আয়ুর্বেদ এবং কবিরাজি শাস্ত্রে এই শাকগুলির গুণ অসীম। পঞ্জিকায় নির্দেশিত এই চোদ্দ শাক, বা আয়ুর্বেদ মতে প্রাচীন বাংলায় চোদ্দো শাকগুলি ছিল পালং শাক, লাল শাক, সুষণি শাক, পাট শাক, ধনে শাক, পুঁই শাক, কুমড়ো শাক, গিমে শাক, মূলো শাক, কলমি শাক, সরষে শাক, নোটে শাক, মেথি শাক, লাউ শাক অথবা হিঞ্চে শাক। বিধিমতো খাওয়া উচিত। তবে তরুণ  প্রজন্মের একটা বড় অংশ এসব নিয়মের ধার ধারে না, তা বলাই বাহুল্য।
চৌদ্দশাক খেলে নাকি কার্তিকের টান থেকে রেহাই পাওয়া যায়, কারণ এই মাসে যমের বাড়ির ৮টি দরজা খোলা থাকে, -- এই প্রবাদটি আজও গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই শাকগুলির প্রচলিত নাম--(১) ওল(Amarphophallus campanulatus), (২) কেউ(Costus speiosus) (৩) বেতো (Chenopodium album) (৪) কালকাসুন্দে(Cassia sophera) (৫) সরিষা(Brassica campestris) (৬) নিম ( Azadirachta indica)(৭) জয়ন্তী (Sesbania sesban) , (৮) শালিঞ্চ ( শাঞ্চে)( Alternanthera sessilis) (৯) গুড়ুচী (গুলঞ্চ পাতা থেকে নেয়া হয়) (Tinospora cardifolia) (১০) পটুক (পটোল পত্র) (Trichsanthes dioica) , (১১) শেলূকা( Cordia dichotoma), (১২) হিলমোচিকা (হিঞ্চে)(Enhydra fluctuans) (১৩) ভন্টাকী (ঘেঁটু বা ভাঁট) (Clerodendrum infortunatum) (১৪) সুনিষণ্ণক (সুষুনী শাক) (Marsilea quadrifolia)
এদের কোনটার বা সমগ্র, কোনটার বা পাতা শাক হিসেবে খাওয়ার জন্য ব্যবহার করার উপদেশ। কিন্তু এর প্রতিটিই ওষধি-গুনসম্পন্ন।
চৌদ্দটির প্রতিটি গাছ সম্মিলিত বা এককভাবে বহু রোগ প্রতিরোধ করতে পারে।[সূত্রঃ চিরঞ্জীব বনৌষধি(১ম খন্ড) :শিবকালি ভট্টাচার্য, পৃষ্ঠা- ১,২ ]

ওল :-ভেষজ হিসেবে উৎকৃষ্ট ওল। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ খাবার। এটি অর্শ্বরোগ সারায় বলে সংস্কৃত ভাষায় ওলকে অর্শ্বঘ্ন বলা হয়। এটি খিদে বাড়ায়, রুচিকারক, পিত্ত ও কোষ্ঠবদ্ধতা দূর করে ও রক্ত পরিষ্কারক। ওল কৃমি, পেটের পীড়া, পেটের বায়ু ও কফ নাশ করে, পিলের অসুখ ছাড়াও অনেক রোগের মহাষৌধ দিসেবে কাজ করে ওল।

কেউ :-জঙ্গলে বা পুকুরপাড়ে অযত্নে পরে থাকা গাছ, কিন্তু এর ওষধিগুন প্রচুর।


বেতশাকঃ- আমাদের বাসভূমির আশেপাশে জন্মায় বলে এই বেতো শাকের আরেক নাম বাস্তক। এর গাছ হয় ছোট, গাছের পাতা অনেকটা তুলসী পাতার মতো, কিন্তু পাতাগুলোর ধার বেশ ঢেউ খেলানো। বোটানিক্যাল নাম- Chenopodium album Linn. এই গাছ সাধারণত জ্বরনাশক। লাল রংয়ের পাতাওয়ালা এক ধরনের বেতো পাওয়া যায়। চন্দন বেতো নামে আর এক ধরনের বেতো শাক পাওয়া যায়। বেতো শাক বায়ু, পিত্ত ও কফনাশক এবং অগ্নিবল বৃদ্ধিকারক। এটি ক্ষারধর্মী। এর মধ্যে কৃমিনাশক শক্তি রয়েছে।
 পুষ্টিকর শাক হিসেবে সর্ষে শাকও কিন্তু বেশ পরিচিত। এতে আছে ভিটামিন সি, কে, এ, সালফার। এতে থাকা ভিটামিন সিতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা দেহকে ভাইরাল অসুখ থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন এ ভালো রাখে দৃষ্টিশক্তি আর ভিটামিন কে হাড় এবং মস্তিষ্ককে রাখে সচল। সালফার দেহে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। এটি দেহে হার্ট অ্যাটাক, আর্থ্রাইটিস ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সর্ষে শাকঃ-

এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সর্ষে শাক খায় তাদের বিভিন্ন রকম ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এটি রক্তে কোলস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে আনে। সেই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতেও কার্যকর। এটি হজম শক্তি বাড়াতে সরাসরি কাজ করে। এই শাক ত্বক ও চুল ভালো রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সর্ষে শাক গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

 কালাকাসুন্দে :-
কালা কাসুন্দেঃ বর্ষজীবী গাছ, এক মানুষ সমান উচুঁ হয়। ঝাড়দার গাছ, বর্ষার প্রারম্ভে বীজ থেকে গাছ জন্মায়। এর পাতা সবুজ, এক একটা লম্বা বোটায় ৫-৬ জোড়া পাতা, চটকালে কটুগন্ধ বের হয়। ফুলের রং লালচে হলদে। ফলগুলি বরবটির মত গুটি হয়, প্রত্যেক গুটিতে ২০-২৫টি বীজ পাওয়া যায়। এই গাছের পাতার শির এবং গাছের উপরের অংশটা একটু বেগুনি রং এর হয়। একে কালা কাসুন্দে  বলে। এই গাছের পাতা, ফুল, মূল অর্থ্যাৎ সমগ্র গাছ ঔষধার্থে ব্যবহার হয়।

 

যেসব রোগে কালা কাসুন্দে ব্যবহার হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অরুচী, গলাভাঙ্গা, গলা-বুক জ্বালা, পাতলা পায়খানা, হুপিং কাশি,মূর্ছা, ঘুসঘুসে জ্বর, হাঁপানী এবং শরীরের চাকা চাকা ফুলে উঠা এলার্জি।
বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পাতা সিদ্ধকরে অল্প পরিমাণ খেতে হয় অথবা পাতা এবং ফুলের রস ১-২ চা চামচ পরিমাণ খেতে হয়। আবার অনেক সময় মূলের ছাল বেঁটে খেতে হয়। 

নিমপাতা :-
জেনে নিন নিমপাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা
ভেষজ উদ্ভিদের নামের তালিকায় সবসময় নিমপাতা শীর্ষে থাকে। অনেকে বলে থাকেন সর্বরোগের ঔষধ হল এই নিমপাতা। শতশত বছর ধরে আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্যে নিমপাতার হরেক রকমের ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমপাতার বিভিন্ন ধরণের কার্যকারিতা নিম্নে আলোচনা করা হল-
১. নিম আমাদের অতি পরিচিত একটি গাছ। এটি আয়ুর্বেদের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। নিমপাতা হতে তৈরিকৃত ঔষধ চুল ও ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়।
২. নিমের পাতায় অ্যান্টি-ফুঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। যা চুলের খুশকি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
৩. এটি চুলকানি, শুষ্কতা ও মানসিক অস্থিরতা দূর করে। যার ফলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৪. নিমপাতা দিয়ে তৈরিকৃত পেস্ট চুল ও মাথার স্ক্যাল্পের জন্য কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।
৫. এটি ত্বকের জ্বালা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
৬. নিমের ডি-টক্সিফাইং বৈশিষ্ট্যের জন্য ত্বকের রোগ চিকিত্সায় সকল আয়ুর্বেদিক ফর্মুলেশনে এর উল্লেখ করা হয়।
৭. ব্রণ বৃদ্ধি করে যে সকল ব্যাকটেরিয়া নিমপাতা তা দূর করে।
৮. নিমের তেল ও নিমের পাতায় চমৎকার উপাদান রয়েছে যা ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। তেল শুষ্ক ত্বক, মানসিক স্থিরতা ও চুলকানি, লালভাব এবং জ্বালা দূর করে।
৯. আলসারের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বিরোধিতা এবং অনাক্রম্যতা উন্নতি করতে সাহায্য করে।
১০. নিমপাতার অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য কোন সংক্রমণ বা পচনশীল অবস্থার ক্ষত আরোগ্য করতে সাহায্য করে।
১১. ব্রণের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে নিম অসাধারণ সাহায্য করে।
১২. এটা কাউর এবং ছোটখাট চামড়া সংক্রমণের মত ত্বকের রোগের জন্য বিশেষ উপকারী।
১৩. এতে গ্যাস্ট্রো প্রতিরক্ষামূলক উপাদান রয়েছে, যা আলসার নিরাময়ে কার্যকর।
১৪. এতে উচ্চ পর্যায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ রয়েছে যা পরিবেশগত ক্ষতি এবং সুপরিণতি থেকে ত্বক রক্ষা করতে সাহায্য করে।
১৫. নিমের তেলে বিভিন্ন ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। এটি ত্বক কোষের পুনর্যৌবন এবং স্থিতিস্থাপকতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
১৬. এটি একটি প্রদীপ্ত চামড়া ও চামড়ার স্বনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১৭. নিমপাতা ছত্রাকের সংক্রমণ দূর করতে পারে।–সূত্র: টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া।
জয়ন্তী শাক :-জয়ন্তী মাঝারি আকারের বৃক্ষ। হুবহু ধইঞ্চার মত দেখতে ফুল, পাতা, ফল সব কিছুই। এর চারা গাছ দেখে অনেক অভিজ্ঞও ধইঞ্চা বলে ভুল করতে পারেন। উচ্চতা ৮ মিটার পর্যন্ত হয়। কাণ্ডে খুব অল্প ব্যবধানে ঘন ঘন ডাল বের হয়। দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষণজীবী বৃক্ষ এটি। বাঁচে প্রায় তিন চার বছর। থোকা থোকা সনালী ফুলের বাহার খুব মনোমুগ্ধকর। ফুলের আকার এক সেন্টিমিটার প্রায়। পাপড়ির ওপরের ভাগ হলুদ রঙের, নিচের দিক বাদামি রঙের ওপর ছোট ছোট কালো অসংখ্য ছিটেফোঁটা থাকে। কুঁড়ি অবস্থায় শুধু কালো ছিটেফোঁটা বাদামি রংটিই দেখা যায়। ফুল ফোটে শীতের শুরু হতে গরমের আগে পর্যন্ত, তবে বছর জুড়েই একটি দুটি ফুল দেখা যায়। ফল চিকন লম্বাটে, কাঁচা অবস্থায় সবুজ। শুকিয়ে গেলে বাদামি বর্ণ। দুর্গা পূজায় নবপত্রিকা তৈরিতে জয়ন্তী লাগবেই। নবপত্রিকা বাংলার দুর্গাপূজার একটি বিশিষ্ট অঙ্গ। এখানে নবপত্রিকা মানে ৯ টি উদ্ভিদ। এই নয়টি উদ্ভিদের একটি এই জয়ন্তী।
সাঞ্চে \শাঞ্চে:-একটি অত্যন্ত প্রাচীন ওষধি গাছ।



গুরুঞ্চি (গুলঞ্চ পাতা ):- ওষধি গাছ 

পলতা\ পটল পাতা ঃ- পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতাপাতা বলে ।


 সৌলফ :-ওষধি গুণসম্পন্ন গাছ। 

  হিলমোচিকা (হিঞ্চে):-

 

 ভন্টাকী (ঘেঁটু বা ভাঁট):-

 

সুনিষণ্ণক (সুষুনী শাক):-

 

 



পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqilab
পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqilab
পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqilab
পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqilab
পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqilab
পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু।


Copyright Daily Inqil
ধর্মের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম , শরীরের কথা মাথায় রেখে এই শাক খাওয়া যেতেই পারে। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

Sunday, 16 October 2016

পেয়াজ দিয়ে এক নিমেষেই বিষাক্ত ফরমালিন বের করে ফেলুন শরীর থেকে

বিষাক্ত ফরমালিন থেকে বাঁচার টিপসঃ আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনে যে সমস্ত খাবার দাবার খাচ্ছি তা বিষাক্ত ফরমালিন সহ বিভিন্ন ধরনের বিষে পরিপূর্ন। জেনে অবাক হবেন, আপনি যতই সচেতন হোন না কেনো বিষাক্ত ফরমালিন সহ বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থের নাগাল থেকে কখনোই মুক্ত হতে পারবেন না। শুধুমাত্র একটা পথই আছে। আর তা হচ্ছে আপনার জীবনধারনের জন্য সমস্ত তরিতরকারী, সবজি ও তেল যদি নিজের ফার্ম বা খামার থেকে উৎপাদন করতে পারেন। তাহলে হয়তো বিষাক্ত ফরমালিন সহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। যদিও যেটা বললাম সেটা সম্পূর্নরূপে অসম্ভব।
পেয়াজ দিয়ে এক নিমেষেই বিষাক্ত ফরমালিন বের করে ফেলুন শরীর থেকে
 তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে বিষাক্ত ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায় কি? উত্তরে এতটুকুই বলবো, বিষাক্ত ফরমালিন থেকে বাঁচার উপায় নেই। কারন আপনি জ্ঞাতসারে দেখে শুনে ভাল জিনিস কিনলেও ওটার ভিতরে কি আছে সেটা কি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন? অবশ্যই না। তাহলে কি করবেন? আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলো এমন একটি উপায়, যেখানে দেখে শুনে খাবার খাওয়ার পর শরীরে যতটুকু বিষাক্ত পদার্থ ঢুকেছে সেটা বের করার চমৎকার একটি পদ্ধতি। এই বিষ বের করার প্রক্রিয়ায় কোন ওষুধ খেলে কাজ হবে না। আজকে শেয়ার করব কিভাবে সম্পূর্ন প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শরীর থেকে ফরমালিন সহ বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত পদার্থ বের করবেনঃ
 বিষাক্ত ফরমালিন সহ টক্সিন বের করুন
হাজার বছরের পুরনো চাইনিজ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, মানুষের পা হচ্ছে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শেষ অংশ। আর পায়ের নিচে এসে শেষ হয়েছে শরীরের সমস্ত রগ, শিরা এবং উপশিরা। যেটাকে শরীরের একদম শেষ চূড়া বলা হয়। আর এই সকল চূড়ার সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত মানুষের নার্ভাস সিস্টেম। সোজা বাংলায় যেটাকে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বলা হয়। ধারনা করা হয় মানুষের পায়ের নিচে প্রায় ৭০০০ বিভিন্ন ধরনের স্নায়ু এসে শেষ হয়েছে। এই স্নায়ুগুলো মানুষের শরীরের বিভিন্ন ধরনের অঙ্গের সাথে সরাসরি যুক্ত। এগুলো খুবই শক্তিশালী ইলেক্ট্রনিক সার্কিটের মতো মানুষের শরীর জুড়ে কাজ করে। আর এই জন্যই চাইনিজ বি্জ্ঞানীরা খালি পায়ে প্রতিদিন কিছু সময় হাটতে বলেন। কারন এসময় খালি পায়ে হাটলে পৃথিবীর মাটিতে থাকা নেগেটিভ আয়ন মানুষের শরীরের কিছু কিছু খারাপ জিনিস ধ্বংস করে ফেলে। যাই হোক আজকে আমরা দেখাবো কিভাবে শরীর থেকে বিষাক্ত ফরমালিন এর মতো আরো কিছু কিছু বিষাক্ত পদার্থ কিভাবে নামানো যায়।


প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
একটি বড় সাইজের পেঁয়াজ
এক জোড়া মোজা
প্রস্তুত প্রনালীঃ
প্রথমে আপনি আপনার দু পা খুব ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিন। তারপর রাতে শোয়ার আগে দুটি পেঁয়াজ মাঝ খান থেকে কেটে ফেলুন। এরপর পেয়াজের কাটা অংশ পায়ের পাতার ঠিক মাঝ বরারবর স্থাপন করে মুজা পুরোপুরি টেনে দিন।  এভাবে মাঝ বরাবর কাটা পেয়াজের কাটা অংশ দু পায়ের পাতায় স্থাপন করে মোজা টেনে দিয়ে শুয়ে পড়ুন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খুলে ফেলুন।


কিভাবে কাজ করেঃ
পেয়াজকে বলা হয় শোষক বা গ্রেট এবজর্বার। পেয়াজ শরীরের সমস্ত বিষাক্ত টক্সিন বা ফরমালিন এর মতো অন্যান্য বিষ শোষন করে নিজের ভিতর নিয়ে নেয়।
সতর্কতাঃ
ব্যবহৃত পেয়াজ ভুলেও খাবেন না। কারো হাতের নাগালে না পাওয়া যায় এমন যায়গায় পেয়াজ ফেলে দিন অথবা মাটিতে পুঁতে ফেলুন। মোজার পরিবর্তে অন্য কোন কিছু ব্যবহার করবেন না। অনেকে টেপ এর কথা বলতে পারেন কিন্তু তাতে পায়ের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্যঃ শরীরের বিষাক্ত ফরমালিন সহ অন্যান্য দূষিত পদার্থ বের করে আনার জন্য ডিটক্স প্যাচ ফুট কেয়ার নামে একটি পণ্য  আগে বাজারে পাওয়া যেত, এখন পাওয়া যায় কিনা জানি না। তবে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর।

তথ্যসূত্র ও ছবি -জানা অজানা

Friday, 14 October 2016

আকন্দ


Akondo Tree
পরিচিতি: আকন্দ মাঝারি ধরনের ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদ। ৮ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছের ছাল ধুসর বর্ণের এবং কান্ড শক্ত ও কচি ডাল লোমযুক্ত। পাতা ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা উপরিভাগ মসৃণ এবং নীচের দিক তুলোর ন্যায়। ক্ষুদ্র বৃন্ত এবং বৃন্তদেশ হৃদপিন্ডাকৃত। গাছের পাতা শাখা ভাঙলে দুধের মত সাদা আঠা বের হয়। সাদা বা বেগুনি বর্ণের ফুল হয়। ৩ থেকে ৪ ফুট দুরুত্বে আগন্দ গাছ লাগাতে হয়। তবে মে- জুন মাসে ফল পাকলে ফেটে বীজ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এ সময় এটি চাষ করা ভালো। এছাড়াও কাটিং পদ্ধতিতেও এটি চাষ করা যায়। প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণ: ১লক্ষ ৩৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারটি।
 বীজ থেকে বংশ বিস্তর সম্ভব হলেও সাধারণ এর মোথা ও সাকার অংশ থেকে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। আকন্দ ব্যবহার্য অংশ: ফুল, পাতা, শিকড় ও আঠা।
উপকারিতা /  ব্যবহার: আকন্দ চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী। দাদ ও টাকপড়া নিবারক। আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাত ব্যথা দুর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়। আকন্দ বাদ বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারক। আকন্দ পাতা ও হলুদের তৈরি বড়ি শোথ/ ফোলা/পান্ডু রোগ নাশখ এবং রস কৃমি নাশক।
Akondo Tree 2

অম্বল/এসিডিটি দেখা দিলে: ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই জলে মিশিয়ে  পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়।
পেট কামড়ানি বা পেট জ্বালায়: আকন্দ পাতার সোজা দিকে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা  সেঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়।
ফোলা রোগে: আকন্দ বিশেষ উপকারী। ফোলাজনিত কারনে কোন স্থান ফুলে উঠলে আকন্দ  পাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
শ্বাস কষ্টে: আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে তারপর আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবে। এর পর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়।
নিউমোনিয়াজনিত বেদনায়: আকন্দ পাতার সোজা দিক ঘি মেখে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে ছেক দিলে উপকার পাওয়া যায়
হজম শক্তি কমে গেলে: ২ গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
তথ্য সুত্র : ঔষধি উদ্ভিদ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার।-এ এ হাকিম